আকস্মিক দুর্ঘটনা
যে কোন দুর্ঘটনায় প্রথম কর্তব্য
হল মাথা ঠাণ্ডা রাখা। তারপর দুর্ঘটনার মূল কারণটিকে বুঝে পরবর্তী স্টেপ নেওয়া।
আগুনে
পোড়া – শরীরে কোথাও পুড়ে গেলে সেই জায়গায় সঙ্গে সঙ্গে
কেরোসিন তেল লাগালে জ্বালা কমে এবং ফোস্কা পড়ে না। বরফ দিয়ে শীঘ্র চাপতে পারলে
গভীরের কোষগুলি ধ্বংস হতে পারে না ফলে ক্ষতের সৃষ্টি হয় না। পুঁই পাতার রস দিলে
তাড়াতাড়ি ঘা শুকিয়ে যায়। পোড়া জায়গায় সঙ্গে সঙ্গে আলু থেঁতো করে লাগালেও জ্বালা
যন্ত্রণা কমে। পুরান তেঁতুল ভালো করে জলে গুলে এই জল পোড়া জায়গায় লাগালে ফোস্কা
পড়ে না ও ঘা হয় না। আগুনে পোড়া রোগীকে ঘি খওয়ানো উচিত। টক্ খাওয়া একেবারেই উচিৎ
নয়।
কেটে
যাওয়া – কোথাও কেটে গেলে প্রথম কাজ হল সেই জাইগাটিকে চিপে ধরা।
সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড সময় লাগে রক্ত জমাট বাঁধতে। কাটা জায়গাটিকে উচু করে রেখে ঠাণ্ডা জল বা বরফ দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। এরপর এতে কোন অ্যান্টিসেপ্টিক বাম
লাগিয়ে ব্যন্ডেজ করতে হবে। পাথর কুঁচি পাতা বেটে লাগালে রক্ত পড়া বন্ধ হয়, ক্ষত
স্থান জোড়া লাগে এবং ঘা শুকিয়ে যায়। দূর্বা ও গাঁদা ফুলের পাতা বেটে লাগালেও উপকার
হয়।
জলে
ডোবা ও অন্যান্য শ্বাস বন্ধ হওয়া – জলে ডুবে যাবার
জন্য কারও নিশ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হলে প্রথমে তাকে উপুর করে শুইয়ে দুটো হাত দিয়ে
বুকের ঠিক মাঝখানে ধীরে ধীরে চাপ দিতে হবে, যাতে তার পেটের ও বুকের জল বেরিয়ে যায় (১০
থেকে ১৫ বার)।
এরপরে হ্রৎপিন্ড চালু করার জন্য মুখের ভেতর
খুব দ্রুত ফুঁ দিয়ে জোরে জোরে বায়ু পাঠাতে হবে। এই ভাবে চারবার ক্রমাগত ফুঁ দেওয়ার
পরে দেখতে হবে স্পন্দন চালু হয়েছে কিনা।
শ্বাস ফিরে এলে তাকে সামান্য গরম খাওয়ার
যেমন চা বা কফি বা দুধ দিতে হবে। এই একই উপায় ইলেকট্রিক শক লাগা বা অন্যান্য ভাবে
শ্বাস বন্ধ হওয়া রুগীর ক্ষেত্রে এই প্রয়োগ করা যেতে পারে।
বিদ্যুতের
শক্ লাগা – ইলেকট্রিকের কারেন্ট লেগে যদি কেউ অজ্ঞান
হয়ে যায়, তাহলে তার মাথায় ও মেরুদণ্ডে তুলসী পাতার রস দিয়ে মালিশ করতে থাকলে
কিছুক্ষণের মধ্যেই জ্ঞান ফিরে আসবে। পায়ের তালাতে ও হাতের তালুতেও তুলসী রস দিয়ে
মালিশ করতে হবে।
সর্পদংশন – সাপ প্রধানত দুই ধরনের হয় – বিষধর ও বিষশূন্য। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিষশূন্য সাপ কামড়ায়, কিন্তু দংশিত ব্যক্তি ভয়েই অসুস্থ হয়ে পড়ে বা মারা যায়। কাজেই
বিষধর সাপের কামড় কিনা সেটা প্রথমে বুঝা দরকার। দংশন অনুযায়ী বোঝা যায় কামড় বিষধর
না বিষহীন সাপের। বিষধর সাপের ক্ষেত্রে দুপাশে দুটো বড় দাঁতের দাগ থাকবে আর বিষশূন্য
সাপের ক্ষেত্রে দুপাশে ছোট ছোট দাঁতের সারির দাগ থাকবে।
সাপ কামড়ালে প্রথম কাজ হল দংশন স্থানকে
বেঁধে দেওয়া যাতে সাপের বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে না পরে। এরপর পরিষ্কার ছুরি বা ব্লেড
দিয়ে কামড়ের জায়গা কেটে বিষাক্ত রক্ত বের করে দেওয়া ও যত দ্রুত সম্ভব নিকটবর্তী
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া।
হঠাৎ
অচৈতন্য বা অজ্ঞান হওয়া(Fainting) – হঠাৎ কোন কারণে জ্ঞান হারালে চটজলদি উভয় হাতের কড়ে আঙুলের নখের ভিতর
দিকে বিন্দুতে ক্রমাগত চাপ দিতে থাকলে খুব তাড়াতাড়ি জ্ঞান ফিরে আসে।
এছাড়া
আর একটি প্রচলিত পদ্ধতি হল জ্ঞান হারান ব্যক্তিকে চিৎ করে সুইয়ে মাথাটি ডান বা বাম
দিকে ঘুরিয়ে রেখে তার দুটি পা উপর করে ৪৫ ডিগ্রী অ্যাঙ্গেলে কিছুক্ষণ ধরে রাখলে
শরীরে রক্ত মাথার দিকে যেতে শুরু করে ফলে মাথাই রক্তের ঘাটতি পূর্ণ হয় ও জ্ঞান
ফিরে আসে।
গ্যাস ও
অম্বল – হঠাৎ কোন কারণে গ্যাস বা অম্বল বা বমি ভাব বা যে কোন
রকম পেটের সমস্যা হলে প্রথম কাজ হল হাতের এই পয়েন্ট গুলিকে হাতের চারটি আঙ্গুল
দিয়ে চাপ দিতে থাকা। এই ভাবে কিছুক্ষণ চাপ দিতে থাকলে আরাম পাওয়া যায়।
গ্যাসের জন্য আদা হল সব থেকে বড় কার্যকারী ঔষধ।
তাই এটিকে চায়ের সাথে বা আদার জুস করেও খাওয়া যেতে পারে। আদার ছোট টুকরো মুখের
ভেতর রাখলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।
মাথা
ধরা – দু’ফোঁটা রসুনের রস নস্যির মতো নাকে টানলে মাথা ধরা
কমে যায়।
মাথা
ঘোরা – দু’ফোঁটা রসুনের রস নাকে টানলে আরাম হয়।
আঘাত ও
মচকা – পাকুড় গাছের শেকড়ের ছাল বেটে গরম করে প্রলেপ দিলে
কিছুক্ষণের মধ্যে আরাম হয়।
কোষ্ঠকাঠিন্য – এক গ্লাস গরম জলে বা গরম দুধে দু চামচ ইষবগুলের ভুষি এবং এক চামচ চিনি
মিশিয়ে খেতে হবে রাত্রে শোবার আগে। রোজ খাবার দরকার নেই। প্রয়োজন হলে খেতে হবে। ১
থেকে দেড় চামচ পেঁয়াজের রস সমপরিমাণ গরম জলের সঙ্গে মিশিয়ে রাত্রে শোবার সময় খেলে
পায়খানা পরিষ্কার হয়।
ঘামাচি – শঙ্খের গুড়ো মাখলে ঘামাচি মড়ে যায়। তেজপাতা বেটে গায়ে মেখে আধঘণ্টা রেখে
তারপর ভালো কড়ে গা রগড়ে স্নান করলে ঘামাচি মরে যায়, ঘাম কম হয়, গা পরিষ্কার থাকে।
পেটফাঁপা – ৫ গ্রাম জোয়ান ও ২ গ্রাম সৈন্ধব লবন একত্রে গুড়ো করে গরম জল সহ খেলে
পেটফাঁপা আরোগ্য হয়। প্রচণ্ড পেটব্যথাও আরোগ্য হয়।
রক্তশূন্যতা – কুলেখাড়া (কুলপী) পাতার রস ৪ চামচ ১ চামচ মধু মিশিয়ে সকালে খালিপেটে
খেতে হবে রোজ ১ বার করে ১ মাস।
বমি – ১ চামচ পেয়াজের রস খেতে হবে। ১০ মিনিটের মধ্যে না কমলে আরও ১ চামচ।
বাতের
ব্যাথা – ৫০ গ্রাম সরষের তেলে ১০ কোয়া রসুন ভেজে সেই তেল দিনে
দুবার করে মালিশ করতে হবে আক্রান্ত যায়গায়।
পুরান
ঘা বা ক্ষতে – ২/৩ কোয়া রসুন বেটে ক্ষতে লাগাতে হবে পর
পর কয়েকদিন।
পায়ের
তলায় গুঁপো বা কড়াতে – রসুনের ১টি কোয়া আধখানা করে কেটে কড়ার
উপর লিউকপ্লাস্ত দিয়ে আটকে দিতে হবে। এভাবে পর পর কয়েকদিন করলে কড়া সেরে যাবে।
জিভে ঘা – জলের সঙ্গে কর্পূর গুলে জিভ বা মুখ ধুয়ে ফেললে জিভের ঘা ভালো হয়।
চোখের
জ্বালা – ৫/৬ টি অপরাজিতার পাতা বেটে কপালে লাগালে চোখ থেকে জল
পড়া ও চোখ জ্বালায় আরাম হয়।
দাঁতের বেদনা – তুলসীপাতা ও
কালো মরিচ পেষণ করে বাটিকা তৈরী করতে হবে এবং যে দাঁতে যন্ত্রণা হচ্ছে, তার তলায়
চেপে রাখলে দাঁতের যন্ত্রণা কমে যাবে। খাবার পর একটি বা দুটি তুলসীর পাতা মুখে
রেখে চিবিয়ে খেতে হবে, এতে মুখের দুর্গন্ধ কেটে যাবে দাঁতের পোকা নষ্ট হবে ও পোকা
লাগবে না। চোয়ালের দোষ হলে তা নষ্ট হয়ে যাবে।